কনটেন্ট রাইটার হতে চান? এই ৭ টি বিষয় আপনার জন্য

লিখেছেনঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম | টি মন্তব্য | বিভাগঃ কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট

কনটেন্ট রাইটিং শুরু করার পরই সবাই একটা কমন প্রশ্ন করে, কিভাবে ভাল রাইটার হওয়া যাবে? কিংবা কিভাবে ভাল কনটেন্ট লেখা যাবে? শুধু ভাল জানলেই কিংবা ভাল ইংরেজী দক্ষতা থাকলেই আপনি ভাল কনটেন্ট লিখবেন, এটা একটা ভুল ধারণা। সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং আপনাকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হবে এবং বিষয়গুলোকে আপনার মাঝে সমন্বয় করে নিতে হবে। তবেই আপনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ কনটেন্ট রাইটার হিসেবে চিন্তা করতে পারবেন।
ওকে। এবার আসুন ৭ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক। যেগুলো আপনাকে আজ থেকেই প্রয়োগ করতে হবে। যদি একজন সফল রাইটার হতে চান।

১. দক্ষতা বাড়ানোর চর্চা করুন:

লেখার দক্ষতা বাড়াতে প্রচুর চর্চা প্রয়োজন। আপনি প্রথমে চিন্তা করুন, কোনো বিষয় কি এমন আছে, যেটাতে আপনি দক্ষ? কিংবা মোটামুটি জানেন? তবে আপনি কেন সেই বিষয়টা নিয়ে প্রতিনিয়ত লিখে যাচ্ছেন না? বিষয়টি নিয়ে আপনাকে প্রতিনিয়ত লেখে যেতে হবে। প্রথম থেকেই যে আপনাকে পাঠকের জন্য লিখতে হবে। বিষয়টা আসলে এইরকম না। আপনি আপনার জন্যই লিখুন না। লেখার দক্ষতা প্রতিনিয়ত বাড়াতে চান, শুরুটা করুন প্রতিদিন কমপক্ষে ২০মিনিট লিখে। আপনি যতই লিখবেন, আপনার হাত ততই পরিপক্ক হবে। আর শেখা? শেখা নিয়ে চিন্তা করছেন? সেটা লেখালেখি শুরু করেই দেখুন না। আপনার লেখার টপিকসই আপনাকে আরো শিখতে বাধ্য করবে। তখন নিজেই অনুভব করবেন, আরো বেশি চর্চা করতে হবে। আর পারফেকশন আনতে হবে। এভাবে কিছুদিন চালিয়ে যান। তারপর প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ৫০০ ওয়ার্ড এর আর্টিকেল লিখা নিজের জন্য বাধ্যতামূলক করে নিন।

২. নিজের যোগ্যতা বাড়ান; এবং কিভাবে :

যোগ্যতা কিংবা দক্ষতা বাড়ানোর কথা সবসময়ই শুনে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কিভাবে আপনার যোগ্যতা বা দক্ষতাটা বাড়াবেন? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর বা দিকনির্দেশনা পাওয়া মুশকিল। ঠিক আছে। আমি আপনাকে ভারী কোনো মহাকাব্য ধরিয়ে দিবো না। জাস্ট কয়েকটা কাজ আপনি নিয়মিত করতে থাকুন। দেখুন কিভাবে নিজের অজান্তেই আপনার দক্ষতা ক্রমাগত বাড়ছে।

  • প্রথমত, নিজের যোগ্যতাকে কখনই খাটো করে দেখবেন না। নিজের ভেতর যোগ্যতাকে বিশ্বাস করতে শিখুন।
  • প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। অন্তত একটি নুতন বিষয় হলেও। এবং কি শিখলেন তা নোট করে রাখুন।
  • বই, ব্লগ, নিউজ সাইট, ম্যাগাজিন নিয়মিত পড়ুন। মনে রাখবেন পড়া ব্যাতিত আপনি কখনো কনটেন্ট রাইটার হতে পারবেন না।
  • ভাল, তথ্যপূর্ণ সোর্সগুলো নোট করে রাখুন। এবং নিয়মিত ভিজিট করুন।
  • কোন লেখাকে যদি আপনার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিংবা তথ্যবহুল মনে হলে সংরক্ষণ করে রাখুন। কিছুদিন পর পর এর উপর চোখ বুলান।

৩. নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখুন:

আপনি নিজেকে একজন লেখক ভাবুন। এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি অন্য আরো রাইটিং স্টাইল নকল করছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে জেনে রাখুন, নকল করে সাময়িক ভাল রেজাল্ট করা যায়। পাস করা যায়। কিন্তু কোনদিন ক্লাসের ভাল ছাত্র হওয়া যায় না। কনটেন্ট রাইটার হিসেবে আপনার যদি এই স্বভাব থেকে থাকে, তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনি ভাল রাইটার হতে পারবেন না।
তাই বলে আপনাকে আমি বলছি না, আপনি অন্য কারো লেখা পড়বেন না। তার কাছ থেকে শিখবেন না। তার টিপসগুলো নিবেন না। কিংবা তার স্টাইল থেকে কিছু শিখবেন না।
না! যদি এটা ভেবে থাকেন তবে ভুল। আপনি ভাল রাইটারদের লেখা পড়বেন। শিখবেন। তথ্য নিবেন। এবং নিজের মতো করে সেগুলো সাজিয়ে নিবেন। নিজের একটা স্টাইল তৈরি করে নিবেন। যা থেকে আপনার স্বকীয় সত্ত্বার গন্ধ পাওয়া যাবে। আপনি কারও কার্বন কপি নন, আপনি আপনিই। আপনার স্বতন্ত্র একটি পরিচয়, স্বতন্ত্র একটি স্টাইল আছে।

আপনি লেখা শেষ করেছেন। এবার নিজেকে পড়ে পড়ে লেখাটা শোনান। আপনার কাছে শুনতে ভাল লাগছে কি না? যদি ভাল না লাগে লেখার উপর ছুরি, হাতুড় নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। যতটুকু দরকার, পরিবর্তন করুন। যেগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব না; আবার লিখুন।

৪. নিজেকে বেকুব প্রমাণ করবেন না:

মনে করুন আপনি এতটাই বিগেইনার স্টেজে যে, আপনার ইংরেজি গ্রামার খুব দুর্বল। শব্দভান্ডার (Vocabulary) বলতে কিছুই নেই। Content Writing সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাই নেই। এই পর্যায়ে আপনি পাঠকদের জন্য লিখতে বসে গেলেন। কেমন হবে?
নিজেকে স্রেফ বেকুব প্রমাণ করলেন। আর কিছু না।
তো কি করণীয়?
আপনি কিছু বই কিনছেন না কেন? একটা MLAAPA কিংবা অন্য কোন স্টাইল সম্পর্কিত বই কিনছেন না কেন?
অনেকে  AP Stylebook টা রিকমেন্ড করে। এটা স্টাডি করতে শুরু করুন।

অত:পর ভাল লেখকদের লেখা পড়ুন। নিয়মিত পড়ুন। তাদের চিন্তা-ধারাগুলো বুঝুন। এদের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে নিজে অভিজ্ঞতা নিন। নিজের বেকুবি বুঝতে পারবেন এবং সহজে বেকুব হওয়া থেকে সতর্ক থাকতে পারবেন। আপনি যখন কোন বিষয়ের রুলসটা জেনে যাবে, তখন আপনার সামনের বাধাটা স্বাভাবিকভাবেই দূর হয়ে যাবে। আপনাকে এর জন্য জল-কামান দাগাতে হবে না। জলকামান ছাড়াই দেখবেন সবকিছু জলবত তরলং হয়ে গেছে।

৫. বড় যদি হতে চাও ছোট হও আগে :

আপনি একজন কনটেন্ট রাইটার হতে চান? তাই তো? আপনি কি শুরুটা করতে চাচ্ছেন একটা ই-বুক লেখা দিয়ে? কিংবা চিন্তা করছেন প্রথম কনটেন্টটাই আপনার ক্লায়েন্টকে ডেলিভারী করবেন? এইরকম কিছু?
যদি এইরকম ভেবেই থাকেন, তবে এই ধরনের চিন্তাধারাই রাইটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। শুরুটা করুন খুব সাধারণভাবে। নিজে একটা ছোট ব্লগ তৈরি করুন। নিজের জন্যই টুকটাক লিখুন। শুরুতে ছোট ছোট লেখাই লিখুন। এগুলো পাবলিশ করে দিন। দেখবেন এগুলো আপনার আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিবে।
তারপর আপনি কিছু লেখা ছোটখাটো কোন ব্লগ সাইটের পাবলিশের জন্য রিকুয়েষ্ট করতে পারেন, কিংবা ম্যাগাজিনগুলোতে। মোটকথা, শুরুটা করুন একদম ছোট থেকে। ধীরে ধীরে আপনার কাজই আপনাকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যাবে। নামকরা ব্লগার এবং রাইটার Jeff Goins তার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বলেছেন, আমি প্রফেশনাল লেখালেখি শুরু করার ৪ বছর পর প্রথম ই-বুক লেখায় হাত দিয়েছিলাম। জেফ আরও বলেছেন, তুমি যদি প্রথমেই কোন বই লিখতে বসো, তুমি স্বাভাবিকভাবেই ব্যর্থ হবে। কারন তুমি তোমার লেখার গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত নও। শুরুটা ব্লগ পোষ্ট, ছোট ছোট আর্টিকেল দিয়েই শুরু করো। পরবর্তীতে অনেক বড় বইও তুমি লিখতে পারবে।

৬. হাল ছেড়ো না বন্ধু :

হাল ছেড়ে দিলে কিছুই করা সম্ভব না। প্রত্যেকটা কাজে সমস্যা থাকবেই। সমস্যাকে উতরেই আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছোতে হবে।
কনটেন্ট লিখতে গিয়ে যে সমস্যাগুলো সামনে আসতে পারে:

  • লিখতে ভালো না লাগা।
  • নিজের ইংরেজীকে দুর্বল ভাবতে থাকা
  • লেখা ভাল হচ্ছে না, এইরকম ভাবা।
  • কনটেন্টে লেখার পর্যাপ্ত রিসোর্স পাওয়া যাচ্ছে না।
  • কিভাবে গুছিয়ে লিখবো, ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না।
  • কি নিয়ে লিখবেন সেটাও বুঝে উঠতে পারছেন না।

লেখালেখি করাটা আপনি নিজের দায়িত্ব বানিয়ে নিবেন। দেখবেন সবগুলো বিষয় আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।

  • লিখতে ভালো না লাগলে একটু বিরতি নিন। আবার শুরু করুন। দরকার হলে একটু পর পর বিরতি নিন।
  • লেখার সময় নিজের ইংরেজীর যোগ্যতা সম্পর্কে ভুলে যান। লেখা শেষ করার পর দরকার হলে ইংরেজী শেখার সাইটগুলো ঘুরবেন। কিন্তু লেখার সময় বিষয়টা সম্পূর্ণ মন থেকে ভুলে যান।
  • লেখা ভাল হচ্ছে না ভেবে থেকে থাকবেন না। খারাপ হলেও লেখা শেষ করেন। তারপর কোন এক্সপার্টকে আপনার লেখাটা দেখান। ভুলগুলো মার্ক করে দিতে বলেন।
  • যদি মনে করেন পর্যাপ্ত রিসোর্স পাওয়াই যাচ্ছে না। তবে যে রিসোর্সগুলো পেয়েছেন ওটা দিয়ে লিখা শুরু করুন। যদি খুবই কম রিসোর্স হয়, তবে ২৫০ ওয়ার্ডের একটি কনটেন্ট হলেও লিখুন। হাল ছাড়বেন না। এই বিষয়টা আপনাকে কিভাবে সাহায্য করছে, কিছুদিন পর বুঝতে পারবেন।
  • আপনি যদি নতুন হোন, তবে গুছিয়ে লিখতে যাবেন কেন? চাইলেও গুছিয়ে লিখতে পারবেন না। বরং লেখাটা শেষ করার পর সেটাকে গুছিয়ে নিন।
  • কি নিয়ে লিখবেন সেটা আপনার মনকে প্রশ্ন না করে গুগলকে প্রশ্ন করুন। নির্ঘাত উত্তর পেয়ে যাবেন।

মোটকথা, হাল না ছেড়ে সমস্যাগুলোর সমাধানের চিন্তা করতে হবে।

৭. কনটেন্ট পাবলিশিং নিয়েও মনোযোগী হোন:

শুধু লিখে গেলেই হবে না। কনটেন্ট পাবলিশিং নিয়েও আপনাকে মনোযোগী হতে হবে। বিভিন্ন আর্টিকেল ডিরেক্টরিগুলোতে আপনার কনটেন্টগুলো পাবলিশ করার জন্য সাবমিট করতে পারেন। কয়েকটা টপ কোয়ালিটির ডিরেক্টরির লিংক দিলাম। এখানে ক্লিক করে দেখে নিন
ব্লগগুলোর অথারদেরকে আপনার কনটেন্ট পাবলিশ করার জন্য রিকুয়েস্ট করতে পারেন। নিজে ব্লগ করেও কনটেন্টগুলো পাবলিশ করতে পারেন। পাবলিশিড কনটেন্টগুলো আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে এবং সমস্যাগুলো ধরিয়ে দিতে সাহায্য করবে। যদি ক্লায়েন্টের কাজ হয় তবে ক্লায়েন্ট কোথায় পাবলিশ করছে চোখ রাখুন। এবং এই কনটেন্ট সম্পর্কে ভিজিটরদের মন্তব্য কি সেটাও লক্ষ্য রাখুন।
মোটকথা শুধু লিখে গেলেই হবে না। কনটেন্ট পাবলিশিংটাকে আপনার গরুত্ব দিতে হবে। যা ক্রমেই আপনাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে।

মোটা মোটা যে কয়টা বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেগুলো লিখলাম। হয়তো আপনাদের কাছে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ও থাকতে পারে। আপনার কোন পরামর্শ থাকলে কমেন্ট করে জানানো জন্য অনুরোধ করা গেলো।

 

  • About The Author
  • Social
  • Recent
  • Comments

লেখা-লেখি ভাল লাগে, তাই লেখা-লেখি করি। ভাল লাগাটাই আমার কাছে আসল, কারণ ভালোলাগা থেকেই আসে সফলতা। যদিও পড়াশুনা করেছি এমবিএ, হিসাব বিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে ওয়েব কোডের সাথে আছি কনটেন্ট ডেভেলপার হিসাবে। আমার সাথে যোগাযোগ করতে - ইমেইল ।। ফেসবুক

  • Sorry, this author doesn't have any comments!